ঢাকাবৃহস্পতিবার , ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
  • অন্যান্য

ফসলে বালাইনাশকের ককটেল স্প্রে, মানবদেহে বাসা বাঁধতে পারে কঠিন ব্যাধি

নিজস্ব প্রতিবেদক
ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৫ ১:০৮ অপরাহ্ণ । ১১ জন

পোকামাকড় ও রোগবালাই দমনে কয়েকটি বালাইনাশক মিশিয়ে ককটেল তৈরি করে মেহেরপুরের কৃষকরা ফসলে স্প্রে করছেন। এতে ফসলের উৎপাদন বাড়লেও দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে মানবদেহে। বাসা বাঁধতে পারে কঠিন ব্যাধি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কয়েকটি রাসায়নিক দ্রব্য মিশিয়ে স্প্রে করা ফসলে মানবদেহে ক্যান্সার, শ্বাসকষ্টসহ বন্ধ্যাত্বের মতো বড় ধরনের সমস্যা বাসা বাঁধবে। কার্যকারিতা হারাবে ওষুধগুলো।

মেহেরপুর জেলায় ২৭ হাজার হেক্টর জমিতে ফসলের আবাদ হয় যার মধ্যে অধিকাংশই তিন ফসলী জমি। মুজিবনগর উপজেলার শিবপুর মাঠে গিয়ে দেখা যায়, কৃষক আনিসুজ্জামান শুভ ফসলের পোকামাকড় ও রোগবালাই দমনে ৫ টি বালাইনাশক একসঙ্গে একটি পাত্রে ঢেলে নিচ্ছেন। এর মধ্যে দু’টি কীটনাশক ও তিনটি ছত্রাকনাশক রয়েছে। পানির সঙ্গে ওষুধগুলো মিশিয়ে তা দেয়া হচ্ছে একটি মেশিনে। পরে তা স্প্রে করা হয় পেঁয়াজ খেতে।

কৃষকরা বলছেন, ‘ফসলের রোগ বালায় দমনে এভাবে কয়েকটি বালাইনাশক একসঙ্গে মিশিয়ে বছরের পর বছর ফসলে স্প্রে করছেন তারা। এতে ফসলকে পোকামাকড় ও ছত্রাকের আক্রমণ থেকে রক্ষা করা যায়। রোগবালাই দমনে সফল হওয়ায় পুরো জেলায় এমন ককটেল বানানোর প্রবণতা বাড়ছে দিনকে দিন।’

কোন কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে নয়, স্থানীয় বালাইনশাক ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন কোম্পানির পরামর্শে এই ককটেল তৈরি করছেন কৃষকেরা। জানেন না তার ক্ষতিকর প্রভাব। কৃষকদের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান এভাবে ওষুধ স্প্রে করলে বেশি কাজ হবে বলে মনে করেন তারা।

যদিও কৃষি কর্মকর্তাদের দাবি, কয়েকটি বালাইনাশক দিয়ে ককটেল তৈরিতে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে কৃষকদের।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক বিজয় কৃষ্ণ হালদার বলেন, ‘বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মাঠ দিবস ও সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানগুলোতে এ বিষয়ে কৃষকদের জানানো হয়। এভাবে বিভিন্ন বালাইনাশকের সংমিশ্রণে ককটেল তৈরি করে ফসলে প্রয়োগ করলে ফসলের পাশাপাশি জমিরও ক্ষতি হয়। ক্ষতিকর পোকামাকড়ের পাশাপাশি উপকারী পোকামাকড় ও ধ্বংস হয়ে যায়।’

এভাবে বিভিন্ন ধরনের বালাইনাশক একত্রে মেশালে নতুন কোনো যৌগ উৎপাদন হতে পারে। তার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে মানুষের শরীরে। বন্ধ্যাত্ব, শ্বাসকষ্ট এমনকি ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়তে পারে, বলছেন রসায়ন বিজ্ঞানের শিক্ষক গোলাম কিবরিয়া। তিনি বলেন, ‘একটি কেমিক্যালের সঙ্গে আরেকটি কেমিক্যাল সংস্পর্শে আনলে নতুন একটি কেমিক্যাল তৈরি হয়। যে কোনো কেমিক্যাল মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর। তাছাড়া মাত্রাতিরিক্ত প্রয়োগের ফলে ফসলগুলো রেজিস্ট্যান্স হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়।’

আর প্রাণিবিদরা বলছেন, এর প্রভাবে কার্যকারিতা হারাবে ওষুধগুলো। যার দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতিকারক প্রভাব পড়বে ফসল উৎপাদনে। প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক ও মেহেরপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড: এ.কে.এম নজরুল কবীরের মতে এর প্রভাব পড়বে মানবদেহসহ পরিবেশের ওপরেও।